এম. মনছুর আলম, চকরিয়া:

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িসহ দুটি বসতঘরে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রবাসীর স্ত্রী ও স্কুলপড়ুয়া দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতন এবং ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ডলনীঘোনা ও কদ্দাছড়া নোয়াপাড়া এলাকায় পৃথকভাবে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. মাসুদ এবং পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ ডাকাতি ও মা-মেয়ের ওপর নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও চকরিয়া থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কদ্দাছড়া নোয়াপাড়া এলাকায় রাত দেড়টার দিকে একটি বাড়িতে এবং ডলনীঘোনা এলাকায় রাত আড়াইটার দিকে অপর এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল প্রবাসীর বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, লুটপাটের একপর্যায়ে ডাকাতদল বাড়িতে অবস্থানরত প্রবাসীর স্ত্রী ও তার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

পরে ভোরে স্বজনরা এসে গুরুতর আহত মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেন। মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাম কাদেরের ছেলে রেজাউল, কদ্দাছড়া গ্রামের বশির আহমদের ছেলে মেহেদী, ডলনীঘোনা গ্রামের মৃত আলমের ছেলে বাবু, কেফায়েত, তানজিদ এবং মনিরুল আলমের ছেলে।

ডাকাতির খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাশ, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ। তারা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মামা সাইদুল ইসলাম মারুফ জানান, তার বোন ও ভাগ্নির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে ডাকাতদল। বর্তমানে তার ভাগ্নির অবস্থা আশঙ্কাজনক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দিচ্ছেন।

মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. মাসুদ বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।”

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, “ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।”